প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / অ্যাথলেটিকস / অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে দুই বাংলার সেতুবন্ধ

অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে দুই বাংলার সেতুবন্ধ

বছর সত্তরের রেবা ভট্টাচার্য। শরীরের মরণব্যাধি ক্যানসারের বসবাস। চেহারায়ও বয়সের ছাপ। কিন্তু মনের দিক থেকে যে কতখানি তরুণ তা বুঝিয়ে দিয়েছেন হাড়ে হাড়ে। দৌড়ের ১০০ মিটারের ট্র্যাকে নেমে হলেন তৃতীয়। সতীর্থদের অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসেছেন। রেবার চোখেও ট্র্যাক জয়ের আনন্দ।

বয়স বাধা হতে পারেনি রেবা ভট্টাচার্যের কাছে। এখনো ট্র্যাকে দৌড়ান। গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে l ছবি: সংগৃহীতবয়স বাধা হতে পারেনি রেবা ভট্টাচার্যের কাছে। এখনো ট্র্যাকে দৌড়ান। গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে l ছবি: সংগৃহীত
প্রবীণ এই অ্যাথলেট চট্টগ্রামে এসেছেন আমন্ত্রণমূলক অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। থাকেন ভারতের কলকাতায়। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দৌড়ে অংশ নেন। বাংলাদেশ মাস্টার্স অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ব্যবস্থাপনায় অবসরে যাওয়া দুই বাংলার অ্যাথলেটদের এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ২৫৩ জন অ্যাথলেট এই মিলনমেলায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রয়েছেন ৫৪ জন। রেবা সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধদের অন্যতম। তিনি ১০০, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল দৌড়ান ১০০ মিটারে।

গতকাল সকালে দুই দিনব্যাপী আয়োজন উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। উদ্বোধনের পর শুরু হয় বিভিন্ন ইভেন্টের অ্যাথলেট প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় জাতীয় মাস্টার্স ও আমন্ত্রণমূলক অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার সম্পাদক মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, সবাই খেলা ছেড়েছেন সেই কবে। কিন্তু এখনো ট্র্যাক তাঁদের টানে। তাই বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজন হচ্ছে।

আয়োজনে বিমানবাহিনী, আনসার, বিজেএমসি, পুলিশসহ ১৩টি সংস্থার প্রবীণ অ্যাথলেটরা অংশ নিচ্ছেন। ১২৫টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সের অ্যাথলেটরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। বয়স অনুযায়ী সাতটি বিভাগে প্রতিটি ইভেন্টের প্রতিযোগিতা হচ্ছে।

এবার আবার রেবার গল্পে ফিরি। বিকেল পাঁচটার দিকে দৌড় শেষ করে তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কাছে গিয়ে পরিচয় দেওয়ার পর পাশে বসালেন। খুললেন স্মৃতির ঝাঁপি। স্কুলজীবনে খেলাধুলার প্রতি ভীষণ টান ছিল রেবার। সেই সময়ের অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পর বন্ধ হয়ে যায় খেলাধুলা। ২০০৯ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। এরপর আবার দৌড়াতে শুরু করেন। যোগ দেন কলকাতার মাস্টার্স অ্যাথলেট অ্যাসোসিয়েশনে। তবে ক্যানসারকেও বাধা মানছেন না রেবা।

পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব নির্মল সরকারও অ্যাথলেটিক্স থেকে অবসর নিয়েছেন ১৯৭৬ সালে। চট্টগ্রামে এসে মেয়েদের ১০০ মিটারে তিনি প্রথম হয়েছেন। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের নীলা দাশ (৫৮) তৃতীয় হয়েছেন ১০০ মিটারের ট্র্যাকে। কম যান না ৬৯ বছরের মিহির চক্রবর্তীও। তিনি গতকাল ৪০০ মিটারে প্রথম হয়েছেন। ১৯৮৪ সালে অবসরে যাওয়া এই অ্যাথলেট ভারতে জাতীয় পর্যায়ে ৮০০ মিটার দৌড়ে একসময় ব্রোঞ্জ পান।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমান আলো ছড়িয়েছেন অবসরে যাওয়া বাংলাদেশের প্রবীণ অ্যাথলেটরাও। জাতীয় পর্যায়ে ১০০ ও ২০০ মিটারে সোনাজয়ী রেহেনা পারভিন, সাবেক দ্রুততম মানব হাফিজুল ইসলাম, অ্যাথলেট মোস্তাক আহমেদ, নেলি জেসমিন, ইসমাইল কুতুবী, রুহুল আমিন, সোহেল সরোয়ারসহ অনেকে ভিড় করেছেন এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। রেহেনা পারভিনের ভাষায়, ‘নাড়ির টানে ছুটে আসা।’

বাংলাদেশের প্রবীণ অ্যাথলেট স্মরণিকা চাকমা গতকাল উচ্চ লাফে দ্বিতীয় হয়েছেন। আজ আরও কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। ১৯৮৮তে অবসর নেওয়া এই নারী বলেন, ‘অ্যাথলেট করি মনের আনন্দে।’

About Online Desk

The Daily Rangpur Chitra is the highest circulated regional daily newspaper of Rangpur Division, Bangladesh

Check Also

উইকেট ভাঙেনি, শরীর তো ভেঙেছে!

টেস্ট-ওয়ানডে দুটিতেই তাঁর মতো স্বপ্নের সূচনা খুব কম ক্রিকেটারেরই হয়েছে। টেস্ট অভিষেকেই ইনিংসে ৫ উইকেট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *