প্রচ্ছদ / বাংলাদেশ / অপরাধ / প্রশ্ন ফাঁস:
সদিচ্ছা থাকলেই সবাই ধরা পড়বে: কায়কোবাদ

প্রশ্ন ফাঁস:
সদিচ্ছা থাকলেই সবাই ধরা পড়বে: কায়কোবাদ

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টের দুটি কমিটি করে দেয়ার আদেশ এখনও কমিটির সদস্যদের কাছে যায়নি। তবে গণমাধ্যমে আদেশ জেনে এরই মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন একটি কমিটির সদস্যরা।

গত কয়েক বছর ধরেই তুমুল আলোচনা হচ্ছে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে। তবে চলতি এসএসসি পরীক্ষার মতো এত ব্যাপকহারে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। সরকারের প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থাকে ব্যর্থ প্রমাণ করে রীতিমতো সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন ফাঁস চলছে।

বিষয়টি নিয়ে তদন্তে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করে। এর পরেও প্রতিটি পরীক্ষার এমসিকিউয়ের প্রশ্ন এসেছে সামাজিক মাধ্যমে। এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে বিচারিক তদন্ত কমিটি গঠন করার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

এই বিষয়ে কথা বলেছেন প্রশাসনিক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি আশা করছেন, এই রহস্যের উন্মোচন করতে পারবেন তারা।

কমিটি কবে কাজ শুরু করেছে?

এখনও আমি আদালতের আদেশ হাতে পাইনি। তবে আমরা কয়েকজন বসেছি। কী করা যায় তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

আলোচনা কী দিয়ে শুরু করেছেন?

আসলে সেরকম আলোচনা না। আমাদের বুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যানও আছেন কমিটিতে। তাকে নিয়ে আমরা বসব। তবে আদালতের আদেশটা হাতে পাওয়ার পরই আমরা মূলত আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করব। কারণ কী বলেছেন আদেশে সেটি আগে ভালভাবে বুঝে আমাদের কাজ ‍শুরু করতে হবে।

শিক্ষা সচিব বলেছেন, বর্তমান অবস্থায় প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব না। আসলেই কী তাই?

আমি মনে করি, মোটেও তা নয়। কারণ বিশ্বের কোনো দেশেই তো প্রশ্নফাঁস হয় না। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজের মতো বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্যালেন্ট হান্ট করে নিয়ে যায়। কই সেখানে তো প্রশ্নফাঁস হয় না।

তাহলে আমরা পারছি না কেন?

আমরা কীভাবে পারব? আপনি আপনার এলাকার মেধাবী ছাত্রটিকে চেনেন? তাকে কী কখনও পুরস্কৃত করা হয়েছে? আপনি কি শুনেছেন কেউ কোনো নতুন জিনিস সৃষ্টি করলে তাকে পুরস্কৃত করা হয় আমাদের দেশে? বরং কে ভাল আচার বানাতে পারে সেটির জন্য সেরা পুরস্কার রয়েছে। কে ভাল গান করতে পারে সেটার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে। তাহলে কেন আপনার দেশে মেধাবীরা থাকবে?

তার মানে বিদ্যমান ব্যবস্থায়ও প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। তবে সেটা আমরা মন থেকে চাই কি না সেটির অপর এটা নির্ভর করবে। আমাদের ইচ্ছাশক্তি যদি প্রবল থাকে যে আমরা এটিকে বন্ধ করতে চাই, তাহলেই সম্ভব।

প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তো বেশ কজন ধরা পড়েছে…

ধরা পরছে কারা? সবচেয়ে নিজের স্তরের লোকগুলো। কিন্তু যেখান থেকে প্রশ্নটা লিক হচ্ছে সেখানের কেউ ধরা পড়ছে না।

কেন মূল হোতারা ধরা পড়ছে না?

এর কারণ তাদেরকে ধরায় কোন আগ্রহ নেই। আগ্রহ থাকলেই তাদের ধরা যায়। চিহ্নিত করা যায়। সদিচ্ছা থাকলেই সবাই ধরা পড়বে।

প্রশ্নফাঁসের পেছনে কী কারণ আছে বলে আপনি মনে করেন?

বর্তমানে যে পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা এবং ছাপানো হয় সেখানে একটি প্রশ্নপত্র অনেক মানুষের দেখার সুযোগ রয়েছে। ৪০-৬০ জন মানুষ নানা সময়ে দেখতে পারে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে। আমার ধারণা এর আগেও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হতো তবে এতো বিস্তার ঘটতো না। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে প্রশ্নপত্র খুব দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রশ্নফাঁস বন্ধে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

প্রশ্নপত্র যদি অনেক আগে ছাপানো হয় তাহলে তা ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রশ্নপত্র যদি পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে আটায় ছাপানো হয় তাহলে তা ফাঁস হবার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এই ধরনের বিকল্প ভাবতে হবে আমাদের। দুই তিন মাস আগে প্রশ্নপত্র ছাপানো তারপরে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় তার বদলে কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দ্রুত গতিতে প্রশ্নপত্র বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো যায় অথবা তার সফট কপি পাঠানো যায় এবং যেখানে প্রিন্ট হতে পারে।

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে অনেকেই এমসিকিউ উঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, আপনার পরামর্শ কী?

না, এটা কোন স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে আমার কাছে মনে হয় না।

About Online Desk

The Daily Rangpur Chitra is the highest circulated regional daily newspaper of Rangpur Division, Bangladesh

Check Also

চালের দামে গরিব হলো আরও ৫ লাখ মানুষ

শুধু চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই গত কয়েক মাসে ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ গরিব হয়ে গেছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *