এবার চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক বিমান

জ্বালানি হিসেবে বিমানে মূলত অ্যাভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (এটিএফ) ব্যবহৃত হয়। সময়ের চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা জেট ফুয়েলের পাশাপাশি বায়োফুয়েল কিংবা গ্যাস-টু-লিকুইডের (জিটিএল) মতো জ্বালানি নিয়েও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।

এবার বিদ্যুৎ ভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রোজেন জ্বালানি ভবিষ্যতে বিমানের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা কমে আসার সাথে সাথে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তেল পরবর্তী সময়ের জ্বালানির প্রধান বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ শক্তির কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন।

তবে এটি বলা যতোটা সহজ করাটা তার থেকে হাজার গুন কঠিন। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় সবার আগে রয়েছে ইউরোপিয়ান বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিদ্যুৎ নির্ভর বিমান জ্বালানি ব্যবস্থার লক্ষ্যে জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিমেন্সের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে এয়ারবাস।

সিমেন্সের বিদ্যুৎ ভিত্তিক বিমান গবেষণা প্রোগামও কিনেছে এয়ারবাস। ২০১৫ সালে ই-ফ্যান লাইট এয়ারক্রাফট ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দারুণ এক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে এয়ারবাস।
সেই সাফল্যের পরে এখন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বিমানের জন্যও বিদ্যুৎ ভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে নতুন জ্বালানির নির্ভর জ্বালানির ক্ষেত্রে এয়ারবাসের সব থেকে বড় সাফল্য ‘ভাহানা’। দুটি প্রোপেলার এবং চারটি ইঞ্জিন থাকবে ভাহানায়। আর এর সব কিছুই চলবে বিদ্যুৎ শক্তিতে। এই নভেম্বরেই ভাহানা টিম ঘোষণা দিয়েছে খুব শিগগিরই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত তারা।

একই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সিটি এয়ারবাস, যারা ২০১৮ সালেই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার ঘোষণা দিয়েছে। সিটি এয়ারবাসের এই বিশেষ বিমানে এক সাথে চার জন যাত্রী পরিবহনেরও সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। এই দৌড়ে আরো রয়েছে ইসরাইলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন এয়ারক্র্যাফট, নাসা এক্স-৫৭ ম্যাক্সওয়েল এবং পিপিসট্রেল আলফা ইলেকট্রো। এদের বেশিরভাগই আগামী বছরের মধ্যে বিমানের জ্বালানিতে বিদ্যুৎ শক্তিকে কাজে লাগানোর ঘোষণা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Pin It on Pinterest