এমন ঘোষণা ভাবনার বাইরে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের পাশে দাঁড়ালেন। পিছু হটলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংসদে বাজেট প্রস্তাবের পর থেকেই সমালোচনার ঝড় চারদিকে। আবগারি শুল্ক আর ভ্যাট নিয়ে ব্যাপক হইচই দেশজুড়ে। ব্যাংকে লাখ টাকা রাখলে আবগারি শুল্ক দিয়ে সে টাকা লাভের মুখ তো দেখবেই না, বরং টাকা কমে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে আবগারি শুল্কের পরিমাণ এত বাড়ানো হয়েছিল যে, যা গরিবের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়টি নিয়ে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ থেকে শহরের আলিশান ভবনে বাস করেন এমন নাগরিকও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের এমপিরাও এ নিয়ে ছিলেন সরব। অর্থমন্ত্রীকে নানা ভাষায় কথা শুনিয়েছেন। এ জন্য অর্থমন্ত্রীকে সব কথাই হজম করতে হয়েছে। এর লাগাম টানতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে দাঁড়াতে হয়েছিল। সবকিছু ছাপিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ঘোষণা দীর্ঘ প্রায় এক মাসের আলোচনা-সমালোচনা নিমিষেই মিইয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী মানুষের ভাবনার বাইরে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মাত্র ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক ধার্য করার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রীকে। আর এক লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো আবগারি শুল্কই রাখেননি তিনি। আর নতুন ভ্যাট আইন আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ছিল। তিনি আবগারি শুল্কের ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এমন ঘোষণা দেবেন তা ছিল ভাবনার বাইরে। আসলে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ বাজেট নিয়ে ভাবেন না। তারা ভাবেন জমিতে ফসল ফলাবেন। আর সে ফসল বিক্রি করে দিন চালাবেন। ধান ফলিয়ে বছরজুড়ে খাবার খাবেন। কিছু সঞ্চয় হলে তা ব্যাংকে রাখবেন। আবার কেউ কেউ পেনশনের টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখেন। তিন মাস পর পর লভ্যাংশ নিয়ে সংসার চালান। অনেক বিধবা তাদের স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ পোস্ট অফিসে রেখে কিংবা সঞ্চয়পত্র কিনে লভ্যাংশ দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চালান। প্রস্তাবিত বাজেটে আবগারি শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা তাদের সবার মাথায় যেন বাজ পড়েছিল। ২৮শে জুন প্রধানমন্ত্রীর অভাবনীয় ঘোষণার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সবাই। সত্যিই প্রধানমন্ত্রী মানুষের হৃদয়ের হাহাকার থামিয়ে দিয়েছেন। সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Pin It on Pinterest