তারেক পরিবারকে সাড়ে চার কোটি ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় তার পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার দুপুরে এই রায় দেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ড্রাইভারকে ৩০ লাখ, ইন্সুরেন্স কোম্পানিকে ৮০ হাজার এবং বাকি টাকা বাস মালিককে আদায় করতে হবে। রায় প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

আর এই টাকার ১০ লাখ পাবেন তারেক মাসুদের মা। আর বাকি টাকা পাবেন তার স্ত্রী ক্যাথরিন ও তার সন্তান।

ইন্সুরেন্স কোম্পানির আইনজীবী সৈয়দ মো. রায়হান উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০১১ সালের ওই সড়ক দুর্ঘটনার পর ২০১৩ সালে তারেক মাসুদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাটি করা হয়। গত বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়। দুই বিচারপতির বেঞ্চ আজ চূড়ান্ত রায় দিলেন।

গত ১৬ নভেম্বর এ মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

আদালতে তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিনের পক্ষে ড. কামাল হোসেন ও সারা হোসেন, বাস মালিকের পক্ষে আব্দুস সোবহান তরফদার ও রিলায়েন্স ইন্সুরেন্সের পক্ষে ইমরান এ সিদ্দিকী ও এহসান এ সিদ্দিকী শুনানি করেন।

সাংবাদিক মিশুক মুনীরের পরিবারের পক্ষ থেকেও এ সংক্রান্ত একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন আছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীরসহ গাড়িতে আরোহী পাঁচজন। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হন আরও কয়েকজন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।

পরে ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় বাসমালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানিকগঞ্জ জেলা জজ ও মোটর কেইমস ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা করেন। এরপর মোকদ্দমা দুটি জনস্বার্থে হাইকোর্টে বিচারের জন্য সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে আবেদন করা হয়।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে মোকদ্দমা দুটি হাইকোর্টে বিচারের পক্ষে মত দেন। এজন্য উপযুক্ত বেঞ্চ গঠন বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে মামলা দুটির নথি ও আদালত বদলির আবেদনের নথি পাঠানো হয়। পরে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সাতজন, বাস মালিকের পক্ষে পাঁচজন এবং ইন্সুরেন্স কোম্পানির পক্ষে একজন হাইকোর্টে সাক্ষ্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Pin It on Pinterest