নিজে নিজেই মেরামত হবে রাস্তা!

‘উফ! এই সেদিন মাত্র ঠিক করল! এখনই এ অবস্থা!’ রাস্তায় বেরোলে এমনটা অনেকই বলেন। কত টাকা-পয়সা খরচ করে, দিনের পর দিন সাধারণ মানুষ শত ভোগান্তি সহ্য করে চায়, ভালো একটা রাস্তা তবু হোক। কিন্তু কয়েকদিন না যেতে রাস্তার হাল সবাইকে বেহাল করে দেয়। প্রায় প্রতিটা দেশের বার্ষিক বাজেটের বিরাট এক অংশ জুড়ে থাকে তাই রাস্তা ঘাট মেরামত করার সম্ভাব্য খরচ। আমাদের দেশেও এর বিকল্প হয় না কখনো। তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এমনটার আর দরকার পড়বে না।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে রাস্তা তৈরি হবে এমন সব উপাদান দিয়ে যেগুলোর জন্য মেরামতের খরচ বরাদ্দের দরকারই পড়বে না। এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ইতোমধ্যেই। আর যিনি এমন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছেন তিনি একজন ভারতীয় প্রকৌশলী এবং অধ্যাপক। তিনি এমন এক প্রযুক্তিরই উদ্ভাবন করেছেন যা দিয়ে রাস্তা বানালে বছর পেরুলেও বেহাল হবে না রাস্তা। রাস্তার যেখানে যখন খানাখন্দ দেখা দেবে, রাস্তা নিজে নিজেই সেখানে মেরামত করে নেবে।

নাগপুরের নেমকুমার বান্টিয়া নামের এই ভারতীয় ২০০৬ সাল থেকে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন। সেখানেই এই বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা শুরু করেন, তাতে সাফল্যও এসছে বলে দাবি এই অধ্যাপকের। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি গ্রামে এই রাস্তা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। নেমকুমার জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতি রাস্তা নির্মাণের সময় যেমন পরিবেশ দূষণ আটকাবে তেমনই এই অভিনব পদ্ধতির জন্য বহু অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।

রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে হাইড্রোফিলিক ফাইবার ন্যানো কোটিং দিয়ে। যার ফলে ভাঙা বা ফাটল নিজে নিজেই মেরামত হবে৷ এধরনের রাস্তায় নির্মাণসামগ্রীর সাথে একধরনের কৃত্রিম তন্তু মিশিয়ে দেয়া হবে। এই কৃত্রিম তন্তুর বৈশিষ্ট হলো পানি পেলে এটি নিজে নিজেই বংশবৃদ্ধি করে। হাইড্রোফিলিয়া ন্যানো কোটিং দেয়া তন্তু পানিকে আকৃষ্ট করে এবং এই পানির সংস্পর্শেই অতিরিক্ত সিলিকেট তৈরি হয়। যে কারণে রাস্তায় কোনো ফাটল হলেই সেখানে পানি জমবে। আর পানি জমলেই সেখানে জন্মাতে থাকবে সিলিকেট। তাতেই সময়মত মেরামত হয়ে যাবে রাস্তা।

নেমকুমারের অভিমত, ১৫ বছরেরও বেশি স্থায়ী হবে এই রাস্তা। পরীক্ষামূলক ভাবে করা রাস্তায় এরমধ্যেই তিনি সাফল্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছে। শিগগিরই তিনি ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তার এই আবিষ্কার নিয়ে হাজির হবেন। তখন আর সরকারকে কাড়ি কাড়ি টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে না। সময় শ্রম দিতে হবে না। মানুষেরও ভোগান্তি কমে যাবে ভালো রাস্তা পেয়ে। নেমকুমার আশাবাদী তার এই আবিষ্কারের ফলে পৃথিবী থেকে পরিবেশ দূষণ আর সম্পদের অপচয় কমে যাবে বহুগুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Pin It on Pinterest