ভাঙল বিএনপির আরেক শরিক

আবার ভাঙল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের একটি শরিক দল। জমিয়তে উলামায় ইসলাম নামের দলটির নির্বাহী সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি ওয়াক্কাছের নির্বাহী সদস্যপদ স্থগিত করেছে দলের একটি পক্ষ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সুরক্ষা কমিটি নামে অসাংবিধানিক কমিটি করার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন ওয়াক্কাসকে বহিস্কার করা নেতারা।

শনিবার দলের আমেলা (নির্বাহী) সদস্যদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূফতি ওয়াক্কাসের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরমধ্য দিয়ে ভাঙন শুরু হল দলটির।

যদিও ওয়াক্কাস অংশের নেতারা এমন সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক দাবি করছেন। তারা বলছেন, যে বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে সেখানে ২৬ জনের মত উপস্থিত ছিলেন। অথচ দলের আমেলা (নির্বাহী) সদস্য ১০১জন। বৈঠকে তো কোরামই পূরণ হয়নি।

মূফতি ওয়াক্কাসের সদস্য পদ স্থগিত করার গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন দলটির মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমী। অন্যদের মধ্যে সহ- সভাপতি আব্দুর রব ইউসূফী, জুনায়েদ আল হাবীব অন্যতম।

এমন খবরের পর নড়েচড়ে বসেছেন মূফতি ওয়াক্কাস ও তার সমর্থকরা। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথাও বলছেন নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে মূফতি ওয়াক্কাসকে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মূফতি রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘দলের মূল পিলার হলেন মূফতি ওয়াক্কাস সাহেব। আর তাকেই কতিপয় নেতা সদস্য পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুনেছি। তাদের তো সেই ক্ষমতাই নেই।’

নূর হোসেন কাসেমীর সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয় না।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর বিএনপি জোটের শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টি দুই ভাগ হয়। দলের মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে বহিষ্কার করেন। পরের দিন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হামদুল্লাহ আল মেহেদীকে বহিষ্কার করেন ইরান।

সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল সমমনা বেশ কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘বড়’ জোট গঠন করেন খালেদা জিয়া। প্রথমে এই জোট ছিল ১৮ দলের। পরে আরো দুটি দলের ‘ভগ্নাংশ’ বিএনপি জোটে যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে রূপ নেয়।

কিন্তু জোট করার আড়াই বছরের মাথায় ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে জোটের ছোট দলগুলো ভাঙতে শুরু করে। এদের মধ্যে আছে প্রয়াত শেখ শওকত হোসেন নিলুর এনপিপি। আর দলটির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ অনুসারীদের নিয়ে বিএনপি জোটেই থেকে যান।

এর আগে বিএনপি জোটের আরেক শরিক ন্যাপ ভাসানী ভেঙে দুটি অংশে বিভক্ত হয়। দলটির চেয়ারম্যান প্রয়াত শেখ আনোয়ারুল হক বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যান। আর দলটির একটি অংশ নিয়ে আজহারুল ইসলাম থেকে যান বিএনপি জোটে।

২০১৪ সালের আগস্ট মাসে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ রশিদ প্রধান বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসেন। আর দলের চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল মবিন থেকে যান ২০ দলীয় জোটে।

একইভাবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যায় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটি পার্টি (এনডিপি)। দলটির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার অনুসারীদের নিয়ে যোগ দেন শেখ শওকত হোসেন নিলুর নতুন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এ। আর এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা থেকে যান ২০ দলীয় জোটে।

বিএনপি জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিও জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কিছু দিন পরই ভাঙনের মুখে পড়ে। দলটির মহাসচিব আবুদল মালেক চৌধুরী অনুসারীদের নিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে যান। গঠন করেন জাগদল নামে নতুন রাজনৈতিক দল। এর আগে দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ অনুসারীদের নিয়ে কল্যাণ পার্টি থেকে বেরিয়ে যান। যোগ দেন নাজমুল হুদা নেতৃত্বাধীন ‘বিএনএফ’-এ। পরে এ দল থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

ভাঙনের সব চেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে গত বছর ৭ জানুয়ারি। এদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যায় ইসলামী ঐক্যজোট। আব্দুল লতিফ নেজামী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটের তৃতীয় সর্ববৃহৎ দল ইসলামী ঐক্যজোটকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে বিএনপি। এই অংশটি এখন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছে বলে প্রচার আছে।

এমন পরিস্থিতে জোটের নাম ঠিক রাখতে আবদুর রকিব ও মাওলানা আবদুল করিমের নেতৃত্বে আরেকটি ‘ইসলামী ঐক্যজোট’ গঠন করে বিএনপি। ইসলামী ঐক্যজোটের ভেতর থেকে জন্ম হয় আরেকটি ইসলামী ঐক্যজোট।

গত বছর ১০ অক্টোবর বিএনপি জোটের আরেক শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) দুটি অংশে বিভক্ত হয়। দলটির সহ সভাপতি এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মেদকে সভাপতি ও মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি জাগপা গঠন করা হয়। জাগপার এ অংশটি ঘোষণা দেয়-তারা বিএনপি জোটে থাকবে না।

জাগপা প্রধান শফিউল আলম প্রধান মারা যাওয়ার পর এখন এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার স্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Pin It on Pinterest