মঙ্গলবার সারা দেশে প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ

‘ভুল’ চিকিৎসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভাঙচুর, নারীসহ ৩ চিকিৎসককে মারধর এবং নয়জনের নামে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে আজ রোববার সকাল থেকে আন্দোলনে নেমেছেন সারাদেশের চিকিৎসকরা। এরই অংশ হিসেবে আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে প্রাইভেট প্র্যাকটিস (চেম্বার) বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকালে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরি এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকে আগামী ২৮ মের মধ্যে সেদিনের হামলা ও মারধরের সঙ্গে জড়িত এবং উসকানিদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আলটিমেটাম দেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া আগামী এক সপ্তাহের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচিগুলো হলোÑ রোববার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সারা দেশের সকল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কালোব্যাজ ধারণ, রোববার এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন এবং মঙ্গলবার সারা দেশে সকল প্রকার প্রাইভেট প্র্যাক্টিস (চেম্বার) বন্ধ রাখা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএমএ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, আমরা বিএমএর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। সেই কমিটি আগামী সাতদিনের মধ্যে সেদিনের ঘটনা তদন্ত করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ২৮ তারিখে বিএমএর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ আবারও বৈঠকে বসবে। এই ৭ দিনে দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় তার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মে সকালে জ্বর, গায়ে ব্যথা ও র‌্যাশ নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আফিয়া আক্তার চৈতী। চিকিৎসাধীন ১৮ মে বিকালে ওই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় চৈতীর মৃত্যু হয়েছেÑ এমন অভিযোগে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় ঢাবির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সেদিন রাতে নয়জনকে আসামি করে ধানম-ি থানায় মামলা করেন ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহকে। অন্য আসামিরা হলেনÑ ডা. কাশেম ইউসুফ, ডা. মর্তুজা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএসএম মাতলুবুর রহমান, ডা. মাসুমা পারভীন, ডা. জাহানারা বেগম মোনা, ডা. মাকসুদ পারভীন ও ডা. তপন কুমার বৈরাগী ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এমএ কাশেম।
উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন কনসালট্যান্ট সার্জন মতিউর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Pin It on Pinterest